About
Guidebooks

বর্তমান ফ্যাক্ট-চেকিং মডেলগুলো কেন আর কাজ করছে না

প্রায় দশ বছর আগে যখন IFCN প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন ফ্যাক্ট-চেকিং ছিল মূলত একটি সাংবাদিকতার উদ্যোগ: নিউজরুমগুলো ভাইরাল হওয়া গুজব খণ্ডন করত এবং প্ল্যাটফর্মগুলোর সহায়তায় সেই সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু আজকের ভুয়া খবরের জগত সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি এখন অনেক দ্রুত এবং অ্যালগরিদমনির্ভর যা এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কন্টেন্ট, জটিল ডিসইনফরমেশন নেটওয়ার্ক এবং ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা দিয়ে চালিত।

শুরুতে যেভাবে ফ্যাক্ট-চেকিং ডিজাইন করা হয়েছিল, তা দিয়ে আজকের এই বিশাল অনলাইন কারসাজির গতির সাথে পাল্লা দেওয়া সম্ভব নয়।

এই নেটওয়ার্কটি কিছু নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে, যা নিশ্চিত করত যে ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলো কঠোর পদ্ধতি মেনে চলে। কিন্তু এই মডেলটি অত্যধিক মাত্রায় ধীর এবং ম্যানুয়াল (মানুষের হাতে করা) প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। আর এটি এমন সময়ের জন্য তৈরি, যখন ভুয়া খবর একটা-দুটো আর্টিকেলের মাধ্যমে ছড়াত, এআই-এর গতিতে নয়।

আর্থিক স্থায়িত্বও একটি বড় সমস্যা। বেশিরভাগ ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা অনুদান এবং স্বল্পমেয়াদী প্ল্যাটফর্ম পার্টনারশিপের ওপর নির্ভর করে চলে—যা অত্যন্ত নড়বড়ে একটি মডেল। মেটার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত (পার্টনারদের বাদ দেওয়া) প্রমাণ করে যে অর্থায়ন ও প্রচারের জন্য টেক কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভর করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রযুক্তিগত খোল নলচে না পাল্টালে আজকের পেশাদার ফ্যাক্ট-চেকিং বড় পরিসরে টিকে থাকতে পারবে না।

 

সামনের পথ: ফ্যাক্ট-চেকিং মডেলের পরিধি বৃদ্ধি

আমাদের বর্তমানের বিচ্ছিন্ন ও প্রচুর শ্রমনির্ভর মডেল থেকে সরে এসে এআই-সহায়তাযুক্ত এবং প্ল্যাটফর্ম-ইন্টিগ্রেটেড (প্ল্যাটফর্মের ভেতরেই সংযুক্ত) ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে। শুধুমাত্র ঘটনা ঘটার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর (reactive) পরিবর্তে, আমাদের একটি ‘হাইব্রিড ইকোসিস্টেম’ প্রয়োজন যেখানে এআই, প্ল্যাটফর্ম, ফ্যাক্ট-চেকার এবং কমিউনিটি নোটস ব্যবহারকারীরা একসাথে দ্রুতগতিতে এবং বড় পরিসরে কন্টেন্ট যাচাই করবে। এখানে মূল ফোকাস হবে তথ্যের ক্ষতিকারক দিক এবং ভাইরাল হওয়ার ক্ষমতার ওপর।

 

একটি প্রযুক্তি-নির্ভর ফ্যাক্ট-চেকিং ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি এবং ভাইরাল হওয়ার প্রবণতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে: 

১. এআই-চালিত অগ্রাধিকার নির্ধারণ: স্মার্ট সিস্টেমগুলোকে ভুয়া খবরের সম্ভাব্য ক্ষতি এবং ভাইরাল হওয়ার ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে শনাক্ত করতে হবে। যাতে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আগেই স্বীকৃত সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা হস্তক্ষেপ করতে পারেন। ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী উদীয়মান ভুয়া খবরগুলোকে আলাদা করা যেতে পারে—উচ্চ-ঝুঁকির দাবিগুলো বিশেষজ্ঞরা দেখবেন, আর কম-ঝুঁকির বিষয়গুলো কমিউনিটি-চালিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সামলানো হবে।

 

২. হাইব্রিড ভেরিফিকেশন মডেল: এটি হবে একটি বহুস্তরের পদ্ধতি যেখানে বিশেষজ্ঞ ফ্যাক্ট-চেকিং, এআই অটোমেশন এবং কাঠামোগত কমিউনিটি ইনপুট বা জনমতের সংমিশ্রণ ঘটবে। এতে যাচাইহীন ক্রাউডসোর্সিংয়ের বিপদ এড়ানো যাবে এবং ভুয়া খবরের মাত্রা ও তীব্রতা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

৩. ইন্টিগ্রেটেড বা সমন্বিত ফ্যাক্ট-চেকিং: ফ্যাক্ট-চেকগুলো এখন আর কেবল স্থির আর্টিকেল হয়ে থাকলে চলবে না; এগুলোকে সরাসরি কন্টেন্ট স্ট্রিম, সার্চ রেজাল্ট এবং কথোপকথনমূলক এআই (যেমন চ্যাটবট)-এর ভেতরে বসিয়ে দিতে হবে। এতে করে যেখানে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে, ঠিক সেখানেই প্রাসঙ্গিকভাবে সঠিক তথ্যটি ভেসে উঠবে।

 

কার কী করণীয়?

প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতি: ফ্যাক্ট-চেকিং অপরিহার্য কিন্তু একে নতুন করে সাজাতে হবে যাতে তা দ্রুত এবং বড় পরিসরে কাজ করে। ফ্যাক্ট-চেকিং থেকে পিছু না হটে বরং স্মার্ট ভেরিফিকেশন টুলের পেছনে বিনিয়োগ করুন।

ফ্যাক্ট-চেকারদের প্রতি: পুরনো IFCN মডেল এখন আর যথেষ্ট নয়। ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাসঙ্গিক থাকতে হলে আমাদের এআই, অটোমেশন এবং প্ল্যাটফর্ম ইন্টিগ্রেশনকে আপন করে নিতে হবে।

নীতি নির্ধারকদের প্রতি: ভুয়া খবর সংক্রান্ত আইনগুলোতে এমন ব্যবস্থা থাকতে হবে যা প্ল্যাটফর্মগুলোকে বড় পরিসরে সত্য-ভিত্তিক পদক্ষেপে উৎসাহিত করে। শুধুমাত্র ‘কন্টেন্ট নামিয়ে ফেলার’ (takedown) নীতি যথেষ্ট নয়, কারণ এতে অনলাইনের অনেক ধূসর বা অস্পষ্ট বিষয় বাদ পড়ে যায়।

বিনিয়োগকারীদের প্রতি: ট্রাস্ট এবং সেফটি মার্কেট বড় হচ্ছে। ভেরিফিকেশন টুল বা যাচাইকরণ প্রযুক্তি এখন একটি অব্যবহৃত বাণিজ্যিক সুযোগ। ফ্যাক্ট-চেকিং শুধু জনকল্যাণমূলক কাজ নয়, এটি প্ল্যাটফর্ম, এন্টারপ্রাইজ এবং রিস্ক ইন্টেলিজেন্স ফার্মগুলোর জন্য একটি ব্যবসার সুযোগও বটে।

 

– 

লেখক: বায়বার্স ওরসেক (Baybars Orsek) সাবেক পরিচালক, ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্ট-চেকিং নেটওয়ার্ক (IFCN); টেক পলিসি থেকে অনূদিত

আরো পড়ুন