কিছু ক্ষেত্রে টিকটকের সমস্যাগুলো অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মতোই। টিকটকেও নির্বাচনসংক্রান্ত অপতথ্যের বিরুদ্ধে কনটেন্ট মডারেশন নীতি রয়েছে—ভুয়া তথ্য সেখানে অনুমোদিত নয় এবং সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করার কথা। কিন্তু অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মতোই এত বড় পরিসরে কনটেন্ট নজরদারি করা খুবই কঠিন। আমি মনে করি, এ বিষয়ে কাজ করা বেশিরভাগ টিমই আন্তরিকভাবে তাদের সেরা চেষ্টা করছে। তবুও এই ব্যবস্থা নিখুঁত নয়, ফলে কিছু ভুল বা অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ে।
এই দিক থেকে টিকটক অনেকটাই অন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মতো। তবে কিছু বিষয় একে আলাদা করে তোলে।
এর একটি হলো, টিকটক পুরোপুরি ভিডিওভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম; আর ভিডিও কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলকভাবে বেশি কঠিন। লেখাভিত্তিক কনটেন্ট বা স্থির ছবির তুলনায় ভিডিওর ভেতরের বিষয়বস্তু শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করার প্রযুক্তি এখনও ততোটা উন্নত নয়। যদিও ভিডিও কনটেন্ট অন্য প্ল্যাটফর্মেও আছে, তবে টিকটকে মূলত এটিই একমাত্র মাধ্যম।
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, টিকটক রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বা রাজনৈতিক ইনফ্লুয়েন্সারকে অনুমতি দেয় না। নির্বাচন ও রাজনীতি নিয়ে ভুয়া তথ্যের ক্ষেত্রে এটি একটি সমস্যা তৈরি করে, কারণ এতে প্ল্যাটফর্মটির কাছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য কম থাকে। উদাহরণ হিসেবে ফেসবুকের কথা বলা যায়, সেখানে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দিতে হলে নিবন্ধন করতে হয় এবং পরিচয় যাচাই করা হয়। টিকটকে এমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায়, সেখানে রাজনৈতিকভাবে কী ঘটছে সে সম্পর্কে প্ল্যাটফর্মের ধারণা তুলনামূলকভাবে কম থাকে, ফলে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করাও আরও কঠিন হয়ে পড়ে।