সাইবার নিরাপত্তা এবং ডেটা প্রাইভেসি বা তথ্যের গোপনীয়তা বিষয়গুলো এখন নিত্যদিনের খবরের শিরোনাম। বিভিন্ন দেশে সরকার একের পর এক নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইন পাস করছে। কোম্পানিগুলোও ফায়ারওয়াল, এনক্রিপশন এবং সচেতনতা বাড়াতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে। এত কিছুর পরেও, সাধারণ মানুষ তাদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করতে গিয়ে ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।
২০২৪ সালে ‘আইডেন্টিটি থেফট রিসোর্স সেন্টার’ জানিয়েছে যে, কোম্পানিগুলো ডেটা চুরির বা হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়া গ্রাহকদের প্রায় ১.৩ বিলিয়ন (১৩০ কোটি) নোটিফিকেশন পাঠিয়েছে। যা তার আগের বছরের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি। এত চেষ্টার পরেও ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঘটনা তো কমছেই না, বরং আরও বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে গ্রাহক কী করতে পারেন? অনেকে মনে করেন সাইবার নিরাপত্তা একটি টেকনিক্যাল সমস্যা; এ ধারণা সত্য তবে এটাই একমাত্র কারণ নয়।
ব্যক্তিগত তথ্যের শক্তপোক্ত সুরক্ষা মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে: সহজলভ্য কারিগরি নিয়ন্ত্রণ, গোপনীয়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে অগ্রাধিকার দেয় এমন জনবান্ধব নীতিমালা। এর যেকোনো একটিতে দুর্বলতা থাকলে পুরো ব্যবস্থাই ঝুঁকির মুখে পড়ে।
প্রতিরক্ষার প্রথম ধাপ
প্রযুক্তি হলো প্রতিরক্ষার প্রথম ধাপ বা ফার্স্ট লাইন অফ ডিফেন্স। এটি সেই কম্পিউটারগুলোকে আগলে রাখে যেখানে তথ্য জমা থাকে এবং এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে যাওয়ার সময় তথ্যকে এনক্রিপ্ট বা সাংকেতিক ভাষায় রূপান্তর করে—যাতে হ্যাকাররা নাগাল না পায়। কিন্তু সেরা নিরাপত্তা টুলও যদি ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়, ভুল কনফিগার করা হয় বা অবহেলা করা হয়, তবে তা ব্যর্থ হতে বাধ্য।
দুটি প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: এনক্রিপশন (Encryption) এবং মাল্টিফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (Multifactor Authentication)। এগুলো ডিজিটাল গোপনীয়তার মেরুদণ্ড। এগুলো তখনই সেরা কাজ করে যখন সবাই এটি ব্যাপকভাবে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করে।
এনক্রিপশন জটিল গাণিতিক হিসাব ব্যবহার করে আপনার সংবেদনশীল তথ্যকে এমন এক ফরম্যাটে নিয়ে যায় যা সঠিক ‘চাবি’ বা ‘কি’ ছাড়া পড়া অসম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যখন কোনো নিরাপদ ওয়েবসাইটে যান, আপনার ওয়েব ব্রাউজার আপনার তথ্য সুরক্ষিত রাখতে HTTPS এনক্রিপশন ব্যবহার করে। এর ফলে আপনার নেটওয়ার্ক বা ওয়েবসাইট অথবা আপনার মাঝখানের কোনো নেটওয়ার্কে থাকা কেউ আপনার কথাবার্তা বা তথ্য আড়ি পেতে শুনতে পারে না। বর্তমানে ইন্টারনেটের প্রায় সব ট্রাফিক এভাবেই সুরক্ষিত থাকে।
কিন্তু চলাচলের পথে নেটওয়ার্কে ডেটা এনক্রিপ্ট করার পরেও কেন আমরা এত ডেটা চুরির শিকার হচ্ছি? আসল বাস্তবতা হলো, চলাচলের সময় তথ্য এনক্রিপ্ট করাটা চ্যালেঞ্জের মাত্র অর্ধেক অংশ।