About
Guidebooks

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সংবাদ গ্রহণ করার ঝুঁকি কী কী?

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক খবর জানার বড় ঝুঁকি হলো, এটা অনেকটা একমাত্র উৎস থেকে সব কিছু জানার মতো—যেখানে আসল ছবিটা পুরোটা নাও দেখা যেতে পারে।

আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুল তথ্য দেখি; কিন্তু একই ধরনের তথ্য আমরা টেলিভিশন সংবাদে, মানুষের পডকাস্টে, স্ট্রিমিং শো তেও দেখি। তাই বিষয়টিকে সামগ্রিকভাবে দেখা জরুরি—সোশ্যাল মিডিয়া শুধু একটি মাধ্যম, যেখানে এই সমস্যা প্রকাশ পাচ্ছে। এটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম, কিন্তু বিশ্বের সব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সবচেয়ে উন্নত কনটেন্ট মডারেশন থাকলেও এই সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। কারণ মূল সমস্যা হলো, নির্বাচিত পদে থাকা মানুষরাই অনেক সময় নির্বাচন নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনীতি বা নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য নেওয়া নিজেই ভালো বা খারাপ, এমন নয়। বিষয়টি নির্ভর করে আপনি যে তথ্য পাচ্ছেন তার মানের ওপর—আপনি যেসব অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করছেন সেখান থেকে সেই তথ্য আসছে, নাকি অ্যালগরিদম, যেমন, টিকটকের “ফর ইউ” পেজ, অ্যালগরিদমভিত্তিক টুইটার ফিড বা ফেসবুকের কনটেন্টের মাধ্যমে আপনার সামনে আসছে। এসব বিষয় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন থাকতে হয়, যদি তারা এই প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে তথ্য নিতে চায়।

বেশিরভাগ মানুষই এসব প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক তথ্য খুঁজতে আসে না। তাই উদ্বেগের বিষয় হলো, যদি হঠাৎ তারা এমন তথ্য পেতে শুরু করে এবং তারা যদি রাজনীতিতে খুব একটা আগ্রহী না হয়, তাহলে তারা কি সেই তথ্যের সত্যতা বা মান যাচাই করতে পারবে? একজন নিয়মিত রাজনৈতিক তথ্য অনুসন্ধানকারী যেভাবে বিচার করতে পারেন, সেভাবে কি তারা পারবে?

অবশ্যই, এমন অনেক ব্যক্তি আছেন, যারা খুব ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন নিয়ে অপতথ্য ছড়ান। তবে একই সঙ্গে রাজনীতি ও নির্বাচন বিষয়ে অনেক ভালো ও নির্ভরযোগ্য তথ্যও টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে রয়েছে। তাই মূল বিষয় হলো, ভালো মানের তথ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া, আর সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব অনেকটাই প্ল্যাটফর্মগুলোর।

আর আমাদের জন্য প্রশ্ন হলো, আমরা যদি রাজনীতি বা নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চাই, তাহলে কীভাবে সচেতনভাবে একটি ভালো তথ্যপরিবেশ তৈরি করবো? আর যদি আমরা এসব বিষয় খুঁজে না-ই থাকি, তবুও যদি এ ধরনের পোস্ট আমাদের সামনে আসে, তাহলে সেগুলো কীভাবে বুঝবো, গ্রহণ করবো বা যাচাই করবো, সে-বিষয়েও আমাদের ভাবতে হবে।

আরো পড়ুন