About
Guidebooks

অ্যাপ, ক্যামেরা, কুকি : আপনার যেসব তথ্য ট্র্যাক করা হচ্ছে

আমরা ভাবি ফেসবুকে কী পোস্ট দিলাম, ইনবক্সে কী লিখলাম; এইগুলোই বোধ হয় আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য। এবং এগুলোই ট্র্যাক করা হয়ে থাকে। আসলে আপনি হাঁটছেন, কথা বলছেন, ব্রাউজ করছেন এমনকি ফোনটা পকেটে নিয়ে নিঃশব্দে ঘুমাচ্ছে—তখনও এসব ডিভাইস আপনার সম্পর্কে তথ্য জমা করছে অথবা অন্যদের হাতিয়ে নিতে সাহায্য করছে। কী সেইসব তথ্য, চলুন জেনে নিই।

লোকেশন ডেটা

আপনার ফোনের GPS, আশেপাশের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক, মোবাইল টাওয়ার, এমনকি কিছু আইডি কার্ড বা ট্রান্সপোর্ট কার্ডের চিপ থেকেও লোকেশন ডেটা বের করা যায়। কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছেন, কতক্ষণ কোথায় থাকছেন, কী রুটে অফিসে যান, এসবই বড় ডেটাসেটে জমা হতে হতে আপনার চলাফেরার একটা প্যাটার্ন বানিয়ে ফেলে। এই ডেটা নিরাপত্তা, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বা বিজ্ঞাপনের জন্য কাজে লাগতে পারে, আবার ভুল হাতে গেলে আপনাকে ট্র্যাক বা প্রোফাইল করতেও ব্যবহার হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় লোকেশন শেয়ার বন্ধ রাখা আর অচেনা অ্যাপকে লোকেশন না দেওয়া এক বিশাল সেলফ ডিফেন্স।

অডিওভিজুয়াল ডেটা

আপনার তোলা ছবি, ভিডিও, ভয়েস মেসেজ বা কল রেকর্ড—সবই অডিওভিজুয়াল ডেটার মধ্যে পড়ে। এগুলোর ভিতর থেকে মুখ, কণ্ঠ, জায়গা, এমনকি কোনো ব্র্যান্ডের লোগোও শনাক্ত করার মতো প্রযুক্তি এখন আছে। বড় ডাটাবেসে এসব ছবি–ভিডিও মিলিয়ে আপনাকে, আপনার বন্ধুবান্ধবকে বা আপনার চালচলনকে চিনে ফেলা খুব একটা কঠিন কাজ না। তাই কোন ছবি পাবলিক, কোনটা প্রাইভেট রাখবেন, আর কোন প্ল্যাটফর্মে অটো–ব্যাকআপ চালু রাখবেন, এসব সিদ্ধান্ত একটু ভেবেচিন্তেই নেওয়া ভালো।

ওয়েব ব্রাউজিং ডেটা

আপনি কোন ওয়েবসাইট দেখলেন, কত সময় কাটালেন, কী কী সার্চ করলেন, এসবই আপনার ওয়েব ব্রাউজিং ডেটা। কুকি, ট্র্যাকার, অ্যাড নেটওয়ার্ক আর সার্ভার লগ মিলিয়ে এই ডেটা অনেক জায়গায় ছড়িয়ে থাকে। সার্ভিস প্রোভাইডার, বিজ্ঞাপনদাতা বা অ্যানালিটিক্স কোম্পানি এগুলো থেকে আপনার আগ্রহ, পছন্দ, রাজনৈতিক ঝোঁক, এমনকি আর্থিক অবস্থার সম্পর্কে ধারণা করতে পারে। ইনকগনিটো মোড, প্রাইভেসি–ফোকাসড ব্রাউজার বা ট্র্যাকার ব্লকার ব্যবহার করলে ঝুঁকি কিছুটা কমানো যায়, কিন্তু পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যাওয়া যায় না; এটাও মাথায় রাখা দরকার।

ডিভাইস ব্যবহারের ডেটা

আপনি কতক্ষণ ফোন ব্যবহার করেন, কোন অ্যাপে বেশি সময় কাটান, কী কী ক্লিক করেন, এসব ডেটা অনেক অ্যাপই ফিডব্যাক বা “ইউজারের অ্যানালিটিক্স” নামে সংগ্রহ করে। সন্দেহজনক সফটওয়্যার আরও এক ধাপ এগিয়ে স্ক্রিনশট, কী-বোর্ডে চাপা বাটন, এমনকি ডিলিট করা জিনিসও ট্র্যাক করতে পারে। এতে আপনার ইন্টারনেট সার্চ, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, চ্যাট মেসেজ, সব মিলিয়ে একটা পূর্ণাঙ্গ ছবি তৈরি করা যায়, আরও ভয়াবহ ক্ষেত্রে আপনার ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ডও চুরি হয়ে যেতে পারে। তাই শুধু অফিসিয়াল স্টোর থেকে অ্যাপ ইনস্টল করা, অ্যান্টিভাইরাস/সিকিউরিটি স্ক্যান ব্যবহার করা আর নিয়মিত পারমিশন চেক করা, এই তিনটা অভ্যাস অনেক ঝুঁকি কমিয়ে আনে।

আরো পড়ুন