ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য যে কাউকেই প্রভাবিত করতে পারে। শুধু তথ্য দিলেই মানুষ তার মত বদলায় না। বরং আবেগ, দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, নিজের গোষ্ঠীর প্রভাব ও সামাজিক চাপ; সব কিছুই তার সিদ্ধান্তকে চালিত করে। এই বাস্তবতা বুঝে কথা বললে আলাপ হয় শান্ত, শ্রদ্ধাপূর্ণ এবং অধিকতর ফলপ্রসূ। নিচে সহজ ভাষায় সেই প্রয়োজনীয় দিকগুলো তুলে ধরা হলো।
আবেগকে আগে বুঝুন
আমরা সবাই কোনো না কোনো সময়ে যুক্তির চেয়ে আবেগ দিয়ে বিচার করি। ভুল তথ্য ছড়ানোকারীরা এই মানবিক দিকটিই কাজে লাগায়; ভয়, রাগ, সহানুভূতি বা আশা উসকে দেয়। তাই কথার শুরুতেই তর্কে না গিয়ে আবেগটা চিনুন: “এই খবরটাতে আপনার কেমন লাগছে?”—এমন প্রশ্ন আলাপকে সহজ করে, শ্রোতাকে রক্ষাত্মক ভঙ্গি থেকে নামিয়ে আনে।
নিজের কথাও বলুন
যে তথ্য আমাদের আগের বিশ্বাসকে শক্ত করে, সেটিই আমরা সহজে মেনে নিই ও শেয়ার করি। এটিই ‘কনফার্মেশন বায়াস’। তাই তথ্য দেখানোর আগে স্বীকার করুন—“আমারও পক্ষপাত থাকতে পারে, আপনারও”—তারপর ধীরে ধীরে উৎস, প্রমাণ ও বিকল্প ব্যাখ্যাগুলো দেখান। এতে মতের দেয়াল একটু ছোট হয়।
‘নিজের গণ্ডি’ বা গোষ্ঠীর প্রভাব
আমরা সবাই কোনো না কোনো দল, চিন্তা বা কমিউনিটির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখতে চাই। একই মতের মানুষের সঙ্গে থাকলে সেই মত আরও শক্ত হয়—সেটা ভালো হোক বা খারাপ, সত্য হোক বা মিথ্যা। তাই বিতর্ক না বাড়িয়ে বলুন, “আপনার কমিউনিটি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ—চলুন দেখি, এই ভুল তথ্যে তাদের কোনো উপকার হয় কিনা?” নিজের গোষ্ঠীর কল্যাণকে সামনে আনলে মতের বদল আনা সহজ হয়।
‘সবাই বলছে’ – অনুকরণ প্রবণতা
একই খবর যখন অনেক মানুষ শেয়ার করে, তখন সেটাই ‘সত্যি’ মনে হয়। জনপ্রিয়তা আর সত্যতা এক জিনিস নয়; এটা শান্তভাবে মনে করিয়ে দিন। উদাহরণ দিন: “সবাই শেয়ার করেছে” আর “বিশ্বস্ত সূত্রে যাচাইকৃত”, দুটি আলাদা বিষয়। প্রয়োজন হলে দেখান, একই তথ্য কি একাধিক গ্রহণযোগ্য উৎসে একইভাবে বলা হয়েছে?
ষড়যন্ত্র তত্ত্বের সময়ে ধৈর্য ধারণ
সংকট বা অনিশ্চয়তায় ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বাড়ে। এর লক্ষণগুলো হলো: সবকিছুকে চরম সন্দেহে দেখা, ‘খারাপ উদ্দেশ্যের’ ব্যাখ্যা খোঁজা, সরকারি বা অফিসিয়াল তথ্য মানতে অনীহা, ‘আমরা সাহসী ভুক্তভোগী’ এমন পরিচয়ের বোধ, আর বড় প্রমাণ এলেও সেটাকে ‘নতুন ষড়যন্ত্র’ বলে ধরে নেওয়া। তাই এখানে সরাসরি খণ্ডন নয়, প্রশ্ন করুন: “কোন প্রমাণ হলে আপনার মত বদলাতে স্বস্তি পাবেন?” তারপর ছোট ছোট যাচাইযোগ্য তথ্য দিন, যাতে মানসিক নিরাপত্তা নষ্ট না হয়।
সহমর্মিতাই শেষ কথা
আবেগ, পক্ষপাত আর অন্তর্ভুক্তির চাহিদা; এই তিনটাই ভুল তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। তাই রাগ না দেখিয়ে, সম্মান রেখে, ধীরে ধীরে উৎস দেখিয়ে কথা বলুন। লক্ষ্য হোক ‘জেতা’ নয়, ‘অন্যকে বোঝা’; তাহলেই কার্যকর, মানবিক যোগাযোগের পথ খুলবে।