মেটা সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে তাদের থার্ড পার্টি ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রাম বন্ধ করে দিচ্ছে। এটি ভুয়া খবর মোকাবিলায় টেক প্ল্যাটফর্মগুলোর দৃষ্টিভঙ্গির বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
ইন্ডাস্ট্রির বৃহত্তর প্রবণতা হলো, স্বাধীন ও পেশাদার যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার সহায়তা না নিয়ে ভুয়া খবর ঠেকানোর দায়ভার সাধারণ মানুষের বা ‘ক্রাউডসোর্সড’ সমাধানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া।পদ্ধতিগত কঠোরতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এমন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলোতে বিনিয়োগ না করে, প্ল্যাটফর্মগুলো এখন নিরাপদ ও সস্তা বিকল্প বেছে নিচ্ছে, যেখানে সব দায় ব্যবহারকারীদের ওপর বর্তায়।
এর একটি প্রধান উদাহরণ হলো এক্স (সাবেক টুইটার), যারা তাদের ‘কমিউনিটি নোটস’ (Community Notes) পদ্ধতির ওপর জোর দিয়েছে। যদিও এই মডেলটি কিছু ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিশীল মনে হয়েছে, কিন্তু এটি পেশাদার ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের পূর্ণাঙ্গ বিকল্প নয়।
‘কমিউনিটি নোটস’ হলো এই ক্রাউডসোর্সিংয়ের একটি ব্যবহারিক রূপ। এখানে কেউ ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য পোস্ট করলে অন্য সাধারণ ব্যবহারকারীরা তার নিচে সঠিক তথ্যটি ‘নোট’ আকারে লিখে দেন। এরপর অন্যরা ভোট দিয়ে জানান নোটটি সঠিক কিনা। যদি বিভিন্ন মতের অধিকাংশ মানুষ নোটটিকে ‘সহায়ক’ বলে ভোট দেন, তবেই সেটি মূল পোস্টের নিচে সবার জন্য দৃশ্যমান হয়। অর্থাৎ এখানে সত্য যাচাইয়ের ভার কোনো পেশাদার সাংবাদিকের হাতে থাকে না, বরং তা সাধারণ মানুষের ভোটের ওপর নির্ভর করে।
এর মানে হলো, তথ্য-ভিত্তিক কোনো সঠিক সংশোধনও যদি প্রভাবশালী কোনো ন্যারেটিভ বা বয়ানের বিরুদ্ধে যায় কিংবা যদি সংঘবদ্ধ অনলাইন আক্রমণের শিকার হয়, তবে তা হয়তো টিকবে না। এর ফলে পুরো ব্যবস্থাটি প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে এবং এর জন্য সমন্বিত অপপ্রচার ঠেকানোর শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন।
প্ল্যাটফর্মগুলো ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের সিদ্ধান্ত পেশাদারদের হাত থেকে সরিয়ে ব্যবহারকারী কমিউনিটির ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়াকে যদিও ‘যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার গণতান্ত্রায়ন’ বলে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এটি আসলে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সামিল।
জনস্বাস্থ্য, নির্বাচনের শুদ্ধতা এবং নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো যখন ঝুঁকির মুখে, তখন সত্য যাচাইয়ের কাজ কোনো ‘জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের প্রতিযোগিতা’ বা ‘আমজনতার মতামতের’ ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।