About
Guidebooks

টেক জায়ান্টদের চলমান একচেটিয়া খেলায় আমাদের যা করনীয়

প্রযুক্তি আজ আমাদের জীবন জুড়ে। কিন্তু বিশ্বের বড় বড় টেক কোম্পানিগুলো যখন সামগ্রিক প্রতিযোগিতাকে সীমিত করে দেয়, পণ্য ও ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা উপেক্ষা করে, ব্যবহারকারীর কপিরাইট লঙ্ঘন করে বা পরিবেশের ক্ষতি করে; তখন কেবল বাজারই নয়, ঝুঁকিতে পড়ে আমাদের গণতন্ত্রও। এর মাঝে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে তাদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকি আরও বাড়ছে। তাই এই মুহূর্তে দরকার এ নিয়ে আমাদের বোঝাপড়া এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের পথে হাঁটা।

বড় কোম্পানি যখন বাজারে একাই রাজত্ব করে, তখন নতুন উদ্ভাবনের সুযোগ কমে যায়। ভোক্তারা নিরাপদ ও ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হন, সরবরাহ চেইনে জটিলতা দেখা দেয়, এমনকি ব্যবহারকারীর তথ্য ও কপিরাইট সুরক্ষাও দুর্বল হয়ে পড়ে। এর সাথে যুক্ত হয় পরিবেশের ক্ষতি এবং ভুল তথ্যের দ্রুত ছড়িয়ে পড়া, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের জাতীয় জীবনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।

জবাবদিহিমূলক জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তা

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাতিরাষ্ট্রভেদে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আইন বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক এবং নাগরিক সংগঠনগুলোর একটি সমন্বিত জোট গড়া গেলে টেক জায়ান্টদের একচেটিয়া বিরোধী নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সহজ হবে। এই জোট নিয়ম-কানুন মানা হচ্ছে কি না, তা নজরদারিতে রাখবে এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় একসঙ্গে অবস্থান নেবে।

বেশি প্রমাণভিত্তিক গবেষণা কেন দরকার

যেকোনো টেক পণ্যের ডিজাইনেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবসার লক্ষ্য মাথায় রেখে তৈরি হয়, মানুষের নিরাপত্তা বা অধিকার নয়। ফলে কাঠামোগত সমস্যা থেকেই নানা ক্ষতি জন্ম নেয়। নির্ভরযোগ্য গবেষণা এসব ক্ষতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরতে পারে, যা ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে এবং জনদাবি গঠনে শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

সৃজনশীল উপায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা

সাধারণ মানুষ যদি বুঝতে পারেন বড় টেক কোম্পানির লাগামহীন ক্ষমতা কীভাবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, ভুল তথ্য এবং ভোটসহ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে, তবে পরিবর্তনের চাপ তৈরি হয়। তাই সহজ ভাষা, আকর্ষণীয় ভিজ্যুয়াল, অ্যানিমেশন বা ছোট ভিডিওর মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দেওয়া দরকার, যেন যে কেউ সহজে বুঝতে পারে। আওয়াজ তুলতে পারে।

নেতৃত্ব বিকাশ ও প্রশিক্ষণ

অধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের নেতাদের দক্ষ করে তুলতে হবে, যেন তারা আইনপ্রণেতা, নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেন। নীতি-অনুসন্ধান, তথ্য-ভিত্তিক যুক্তি উপস্থাপন এবং জনমত গঠনের কৌশল শিখিয়ে তাদের প্রস্তুত করতে হবে, যাতে টেক খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার এগিয়ে নেওয়া যায়।

শেষ কথা

ভবিষ্যতের প্রযুক্তি যেন সবার জন্য ন্যায্য ও নিরাপদ হয়। এই যাত্রায় তাই একসঙ্গে হাঁটলে টেক জায়ান্টদের একচেটিয়া খেলার বাইরে এসে আমরা একটি দায়িত্বশীল, মানুষের জন্যে  প্রযুক্তি-পরিবেশ গড়তে পারব।

আরো পড়ুন