About
Guidebooks

যেসব নজরদারির প্রযুক্তি আপনাকে ট্র্যাক করতে পারে

আমরা ভাবি, ফোনটা পকেটে, ল্যাপটপটা ব্যাগে, তাই সব কিছুই আমাদের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু এরই মাঝে অদৃশ্য অনেক প্রযুক্তি আছে, যা আমাদের চলাফেরা, কথা, মেসেজ এমনকি কাজের ডকুমেন্ট পর্যন্ত ট্র্যাক করতে পারে। তাই জেনে রাখা জরুরি যে কোন কোন প্রযুক্তি আপনাকে ট্র্যাক করতে পারে, আর কী ধরনের ডেটা তার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। এই বোঝাপড়া থাকলে আপনি নিজেই অনেক সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

স্পাইওয়্যার (বা স্টকারওয়্যার)

স্পাইওয়্যার বা স্টকারওয়্যার হলো এমন সফটওয়্যার, যা আপনার ফোন বা কম্পিউটারে লুকিয়ে ইনস্টল হয়ে সবকিছুর উপর নজরদারি চালাতে পারে। এগুলো আপনার ফাইল, ছবি, মেসেজ, কল লগ, এমনকি লাইভ লোকেশনও দেখতে পারে, অনেক সময় স্ক্রিনশট বা কিবোর্ডে কী লিখছেন তাও রেকর্ড করে। সমস্যাটা হচ্ছে, এ ধরনের সফটওয়্যার সাধারণ ব্যবহারকারীর চোখে ধরা পড়ে না, আর বেশিরভাগ সময় কাছের মানুষ, নির্যাতনকারী পার্টনার বা অপরাধীরাই এগুলো ব্যবহার করে থাকে। তাই ডিভাইস অচেনা কারও হাতে না দেওয়া, অদ্ভুত আচরণ করলে সিকিউরিটি স্ক্যান করা আর অজানা লিংক বা অ্যাপ ইনস্টল না করাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা এক্ষেত্রে।

সারভেইলেন্স ক্যামেরা

অফিস, রাস্তা, ব্যাংক, শপিংমল অনেক জায়গাতেই এখন সারভেইলেন্স ক্যামেরা বা সিসিটিভি লাগানো থাকে। এগুলোর মূল উদ্দেশ্য নিরাপত্তা ও অপরাধ শনাক্ত করা হলেও, একই সঙ্গে এগুলো আপনার চলাফেরার একটি প্রমাণ তৈরি করে রাখে। আধুনিক অনেক ক্যামেরা সিস্টেম আবার ফেসিয়াল রিকগনিশন ব্যবহার করে নির্দিষ্ট মুখ চিনে বের করতে পারে, যার ফলে কোথায়, কখন, কতক্ষণ ছিলেন, এগুলো মিলিয়ে আপনার সম্পর্কে প্রোফাইল বানানো সম্ভব। তাই অন্তত ধরে নিতে পারেন, জনসমাগমস্থলে আপনি প্রায়ই “ক্যামেরার ফ্রেমে” থাকেন, আর সেই ফুটেজ কোথায় যাচ্ছে তা সবসময় আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

 

মাইক্রোফোন

স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, স্মার্ট স্পিকার, এদের প্রত্যেকটিতেই মাইক্রোফোন থাকে, যা চারপাশের কথা-বার্তা রেকর্ড করতে সক্ষম। কিছু প্রযুক্তি শব্দ বিশ্লেষণ করে আপনার কণ্ঠের ভঙ্গি থেকে রাগ, চাপ বা মুড বোঝারও চেষ্টা করে, যদিও এগুলো সবসময় খুব বেশি নির্ভুল হয় না। সমস্যাটা তখনই বড় হয়, যখন কোনো অ্যাপ প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাইক অ্যাক্সেস নিয়ে চুপচাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে শুনতে থাকে। তাই কোন অ্যাপ মাইক্রোফোন ব্যবহার করছে, সেটিংসে গিয়ে মাঝে মাঝে দেখে নেওয়া আর সন্দেহ হলে মাইকের দ্রুত টগল দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া একটা ভালো অভ্যাস।

সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং

আপনি সোশ্যাল মিডিয়াতে কী লিখছেন, কার পোস্টে লাইক দিচ্ছেন, কার সঙ্গে ফ্রেন্ডশিপ করছেন, এসবই খুব সহজেই বিশ্লেষণ করা যায়। বিভিন্ন অ্যানালিটিক্স টুল বা মনিটরিং সিস্টেম আপনার ফেসবুক, টুইটার (এক্স), ইনস্টাগ্রামসহ অন্য অ্যাকাউন্টের ওপেন ডেটা থেকে বের করে ফেলতে পারে কোথায় সময় কাটান, কোন বিষয়ে আগ্রহী, কার সঙ্গে বেশি যোগাযোগ হয়। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা, বিজ্ঞাপনদাতা বা অন্য প্রতিষ্ঠান এসব ডেটা ব্যবহার করে আপনার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়। তাই প্রাইভেসি সেটিংস ঠিক রাখা, পাবলিক পোস্টে কী শেয়ার করছেন তা ভাবা, আর অচেনা অ্যাপকে “Access to profile” দেওয়ার আগে দু’বার ভাবা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ইন্টারনেট মনিটরিং ও ফিল্টারিং

আপনি যে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকেন বা যে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার ব্যবহার করেন, তারা আপনার ট্রাফিক সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পারে। কোন সাইটে যাচ্ছেন, কতক্ষণ থাকছেন, কত ডেটা ট্রান্সফার হচ্ছে, এসব লগ করা প্রুযুক্তিগতভাবে  খুবই সহজ। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া, কনটেন্ট ব্লক করা বা ফিল্টার করা হয়, যা আপনি ব্রাউজ করার সময় সরাসরি টের পান। এনক্রিপ্টেড সংযোগ থাকলে (যেমন https) সাধারণত পুরো মেসেজ বা পাসওয়ার্ড পড়া যায় না, তবে যদি আপনার ডিভাইসেই নজরদারি সফটওয়্যার বসানো হয়, তাহলে সার্চ, মেসেজসহ অনেক কিছুই দেখা সম্ভব হয়; এই জায়গাটা নিয়েই আসলে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।

 

ডকুমেন্ট ও ইমেইল স্ক্যানিং

গুগল ড্রাইভ, মাইক্রোসফট ৩৬৫ বা অন্য ক্লাউড সার্ভিসে রাখা ডকুমেন্টগুলো প্রায়ই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্যান করা হয়। কখনো ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস আছে কি না দেখার জন্য, কখনো ফিচার উন্নত করার জন্য, আবার কখনো নীতিমালা ভঙ্গ হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে এসব স্ক্যান হয়। শুধু টেক্সট ডকুমেন্টই নয়, ছবি, পিডিএফসহ অ্যাটাচমেন্টের মধ্যেও কী আছে, মেশিন লার্নিং টুলস দিয়ে অনেকটাই বোঝা যায়। ফলে “শুধু আমার আর প্রাপকের মাঝে থাকবে” ভেবে যে ইমেইল বা ফাইল শেয়ার করেন, সেটা আসলে অন্তত সার্ভিস প্রোভাইডারের সিস্টেমের চোখেও পড়তে পারে, এটা মাথায় রাখাটা জরুরি।

আরো পড়ুন