আমাদের দেশের রাজনীতি যাই হোক না কেন, তথ্যপ্রবাহ যেন সুস্থ, উন্মুক্ত আর গণতান্ত্রিক থাকে, এটা আসলে সবারই স্বার্থে। কারণ ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়লে শুধু কোনো একটি পক্ষ নয়, পুরো সমাজই বিভক্ত হয়, সহিংসতা বাড়ে, আর গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে যায়। তাই একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে শুধু নিজের নিউজফিড নয়, সামগ্রিক তথ্য পরিবেশ নিয়েও ভাবা জরুরি। কিছু ছোট ছোট রাজনৈতিক ও সামাজিক আচরণ বদলালেই আমরা সবাই মিলে অপতথ্যের বিরুদ্ধে একটা শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারি।
দলমত নির্বিশেষে অপতথ্যকে শত্রু ভাবুন
প্রথম কাজ হলো, অপতথ্যকে হালকাভাবে না নেওয়া; এটাকে সরাসরি গণতন্ত্রের শত্রু হিসেবে দেখা। কারণ গুজব, মিথ্যা খবর বা বিকৃত তথ্য মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করে, ভোটারকে বিভ্রান্ত করে, কখনও সহিংসতাও উসকে দিতে পারে। নতুন এআই প্রযুক্তি, ডিপফেক, ভুয়া স্ক্রিনশট এসব যদি ভুল হাতে পড়ে, তাহলে এগুলোকে ব্যবহার করে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। তাই “আমার দলের পক্ষে বলছে” বলে কোনো মিথ্যা তথ্যকে সমর্থন না করে, বরং দলমত নির্বিশেষে অপতথ্যকে সমস্যার মূল হিসেবে ভাবা দরকার।
অপতথ্যের বিরুদ্ধে যারা কাজ করছে, তাদের পাশে দাঁড়ান
গুজব ঠেকানো বা ফ্যাক্টচেকিং করার কাজ শুধু সাংবাদিক বা কোনো বিশেষ ব্যক্তির দায়িত্ব না, এটাও এক ধরনের নাগরিক ও রাজনৈতিক কাজ। যে রাজনীতিবিদ, সংগঠন, মিডিয়া বা উদ্যোগ গুজব ও অপতথ্যের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, তাদের পাশে দাঁড়ানো আসলে একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। এতে বোঝানো যায়, মানুষের ভোট শুধু দলীয় প্রতিশ্রুতিতে নয়, সত্য ও স্বচ্ছতার প্রতিও মূল্য দেয়। এখানে সমর্থন মানে অন্ধ সমর্থন নয়; বরং যে কেউ যখন তথ্যের স্বচ্ছতার পক্ষে দাঁড়ায়, তাকে “আমার দল–তোমার দল” ভাগ না করে গণতন্ত্রের সহযোগী হিসেবে দেখা।
অনলাইন জগতের অধিকার ও সমস্যা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলুন
ডিজিটাল দুনিয়ায় আমাদের অধিকার, নিরাপত্তা আর মুক্ত তথ্যপ্রবাহের বিষয়গুলোও রাজনৈতিক ইস্য; এটা রাজনীতিবিদদের বুঝিয়ে দেওয়া জরুরি। সোশ্যাল মিডিয়া, কমিউনিটি আলোচনায়, নাগরিক প্ল্যাটফর্মে এসব নিয়ে খোলাখুলি কথাবার্তা বলতে হবে, যেন নেতারা বুঝতে পারেন ডিজিটাল অধিকার ও তথ্যের সুরক্ষা জনগণের কাছে বাস্তব এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
স্বল্পমেয়াদে সচেতনতা বাড়াতে হবে বন্ধু–পরিবার–কমিউনিটির মধ্যে, আর দীর্ঘমেয়াদে এটাকে জনগণের এজেন্ডায় পরিণত করতে হবে, যাতে নীতি–নির্ধারণের সময় এগুলো গুরুত্ব পায়।
তথ্যের স্বাধীনতা মানে আমাদের নিজেদের স্বাধীনতা—এটা মনে রাখাই হলো মূল কথা। গুজবের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, অপতথ্য ঠেকাতে যারা কাজ করছে তাদের সমর্থন করা, আর ডিজিটাল অধিকারের কথা রাজনীতির মূল আলোচনায় নিয়ে আসা—এই তিনটিই নিরাপদ তথ্যের পরিবেশ গড়ে তোলার শক্ত ভিত্তি।
এই ভাবনাগুলো ইংল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান “রুটকজ” থেকে নেয়া।