About
Guidebooks

ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে সহজ কিছু পরামর্শ

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা এখন রোজকার কাজ। কাজের ইমেইল, সোশ্যাল, ডেটিং, শপিং, শেখা, সব কিছুতেই দরকার পড়ে। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে তথ্য দিলে পরে পরিচয় ফাঁস, স্টকিং, স্প্যাম বা ডেটা-মাইনিংয়ের ঝুঁকি বাড়ে। তাই শুরুর দিনেই কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চলা জরুরি। ব্যক্তিগত তথ্য কম দেওয়া, ভিন্ন কাজে ভিন্ন পরিচয় রাখা, ট্র্যাকিং ও সার্চ-ভিজিবিলিটি কমানো, আর পারমিশন নিয়ন্ত্রণে রাখা।

নিচের দিকনির্দেশনায় আপনি ঝামেলা ছাড়াই নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করে স্মার্টভাবে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন।

ভিন্ন কাজে ভিন্ন ইমেইল

নতুন অ্যাকাউন্টের ইমেইল ঠিকানা বা ইউজারনেমে নিজের পূর্ণ নাম, জন্মতারিখ, ফোন বা পরিচিতি-বোঝা যায় এমন কিছু ব্যবহার করবেন না; এই তথ্যগুলো ফিশিং বা ডক্সিংকে সহজ করে। এক কাজের জন্য এক ইমেইল রাখুন, চাকরি ও পড়াশোনার জন্য পেশাদার ইমেইল, সোশ্যাল বা ডেটিংয়ের জন্য আলাদা ইমেইল, আর অনলাইন কেনাকাটা/সাবস্ক্রিপশনের জন্য আরও একটি; এভাবে ভিন্ন কাজে ভিন্ন ইনবক্স থাকলে স্প্যাম ও ঝুঁকি আলাদা রাখা যায়।

সম্ভব হলে “ইমেইল মাস্কিং” সার্ভিস ব্যবহার করুন। সাইটে সাইন-আপের সময় আসল ইমেইল লুকিয়ে প্রক্সি ঠিকানা দিলে প্রয়োজন হলে সেটি বন্ধ করা যায়, অথচ বার্তাও পৌঁছে যায় মূল ইনবক্সে।

আলাদা পরিচয় ও ছবি বাছাইয়ে সতর্কতা

একই ইউজারনেম বারবার ব্যবহার করলে সার্চে বা স্ক্র্যাপিং-টুলে আপনার একাধিক প্ল্যাটফর্ম সহজে জুড়ে যায়। তাই প্রতিটি সাইটে আলাদা ইউজারনেম নিন এবং এমন নাম বাছাই করুন  যাতে ব্যক্তিগত সূত্র (নাম/ঠিকানা/বর্ষ) না থাকে।

প্রোফাইল ছবির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম; সব জায়গায় একই ছবি রাখলে ক্রস-প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে আপনাকে ট্র্যাক করা সহজ হয়; সম্ভব হলে আলাদা আলাদা ছবি ব্যবহার করুন।

আর যেখানে বাধ্যতামূলক নয় সেখানে নিজের মুখের ছবি না দিয়ে প্রতীকী বা জেনেরিক ইমেজ ব্যবহার করুন। এই ছোট সিদ্ধান্তগুলোই আপনাকে “সহজে শনাক্তযোগ্য” থেকে মেলাতে কঠিন হবে এমন এক তুলনামূলক নিরাপদ পরিসরে নিয়ে যায়।

বাধ্যতামূলক না হলে সব তথ্য নয়

সাইন-আপ ফর্মে অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত তথ্য “ঐচ্ছিক” থাকে, ভালো করে দেখে কেবল বাধ্যতামূলক ঘরগুলো পূরণ করুন।  স্কুল, ঠিকানা, সেকেন্ডারি ফোন, এসব না দিলেও অ্যাকাউন্ট চলে অনেক সময়।

অ্যাপ বা ওয়েবসাইট যদি আপনার ফোনবুক, ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্ট বা অন্য কোনো কন্টাক্টস-লিস্টে অ্যাক্সেস চাই, নির্দ্বিধায় “না” বলুন। এতে শুধু আপনার না, আপনার পরিচিতদের গোপনীয়তাও সুরক্ষিত থাকে। শেষে অ্যাকাউন্ট/প্রাইভেসি সেটিংসে গিয়ে “পাবলিক সার্চ” বা সার্চ-ইঞ্জিন ইনডেক্সিং বন্ধ করে দিন, যাতে আপনার প্রোফাইল গুগলসহ অন্য সার্চ ইঞ্জিনে সহজে না ভেসে ওঠে; এতে অনাকাঙ্ক্ষিত খোঁজাখুঁজি, নাম-জুড়ে দেওয়া বা পুরোনো তথ্য ভেসে ওঠার ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

আরো পড়ুন