About
Guidebooks

যেকোনো খবরের বায়াস চেনার সহজ কৌশল

নিত্যদিনের সংবাদ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে, সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। তাই একটি খবর কতটা ভারসাম্যপূর্ণ; এটা বোঝা জরুরি। নিচে সাধারণ কিছু বায়াস বা পক্ষপাতের ধরন, এবং এগুলো বুঝতে কয়েকটি সহজ কৌশল দেওয়া হলো। এবং সবই সহজ ভাষায়।

দলীয় বায়াস ও কর্পোরেট প্রভাব

সাংবাদিক বা প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক বিশ্বাস খবরে ভাষা, শিরোনাম ও ফ্রেমিংকে যখন প্রভাবিত করে, তখন সেটাই দলীয় বায়াস; একই ঘটনার দুই ভিন্ন ব্যাখ্যা কেবল রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দেখা গেলে বোঝা যায় বায়াস কাজ করছে। পাশাপাশি কর্পোরেট বায়াসও সংবাদকে নীরবে বাঁকিয়ে দেয়: বিজ্ঞাপনদাতা বা মালিকপক্ষের স্বার্থে কোনো খবর ছোট হয়ে যায়, দেরিতে আসে, এমনকি প্রকাশই পায় না; অর্থনৈতিক চাপ সংবাদে অগ্রাধিকার বদলে দিয়ে জনস্বার্থের বদলে ব্যবসায়িক স্বার্থকে সামনে আনে।

কভারেজ বদলে যাওয়ার আরো তিন পথ

জাতি, লিঙ্গ, সংস্কৃতি বা অর্থনৈতিক অবস্থার পার্থক্যে একই ঘটনাকে ভিন্ন মানদণ্ডে কভার করা গোষ্ঠীগত বায়াসের লক্ষণ; এক গোষ্ঠীর জন্য বড়, অন্যের জন্য তুচ্ছ হয়ে ওঠে খবর। এর সঙ্গে ‘বড় গল্প’ বানানোর তাড়াও যোগ হয়: নাটকীয়তা, চমক বা ক্লিকের মোহে মূল প্রেক্ষাপট বিকৃত হয়ে ছোট কিন্তু জরুরি তথ্য আড়ালে পড়ে যায়। আবার অনেক সময় সব পক্ষকে সমান দেখাতে গিয়ে ‘নিরপেক্ষতার বায়াস’ তৈরি হয়। মিথ্যা ও সত্যকে একই কাতারে বসানোয় মূল সত্য অস্পষ্ট হয়ে যায়, দর্শক–পাঠক বিভ্রান্ত হন।

খবর–মতামত আলাদা করুন, সাথে করুন বায়াসের তুলনা 

প্রথমেই নিশ্চিত হোন আপনি কী পড়ছেন: খবরে তথ্য–প্রমাণ, সূত্র ও প্রেক্ষাপট অগ্রাধিকার পায়; অপরদিকে  সম্পাদকীয়, কলাম বা অপ-এড হলো মতামত; এগুলো মত গঠনে সাহায্য করে, তাই এসব তথ্য যাচাইয়ের বিকল্প নয়।

অপরদিকে খবরের বায়াসকে সাদা–কালো না ভেবে ‘মাত্রা’ হিসেবে ধরলে বিশ্লেষণ সহজ হয়। খবরে বায়াস কোথাও কম, কোথাও বেশি থাকতে পারে; একই প্রতিবেদনেও শক্ত ও দুর্বল দিক থাকতে পারে।

আর সব কথার শেষে তুলনা অনিবার্য: একই ঘটনার অন্য বিশ্বস্ত রিপোর্ট, ডেটা বা মূল নথির সঙ্গে মেলাতে শিখুন। যখন বলবেন “এখানে বায়াস আছে”, তখন নিজেকেই জিজ্ঞেস করুন “কিসের সঙ্গে তুলনা করছি এইখানে?”

শেষতক নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে শিখুন

আমাদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস অনেক সময় অপছন্দের খবরকে সহজে “বায়াস” বলে উড়িয়ে দিতে শেখায়। তাই থামুন, নিঃশ্বাস নিন, ভাবুন “আমি কি শুধু আমার মতের পক্ষে প্রমাণই দেখছি?”

ইন্টারনেটের নানা মিডিয়া–বায়াস চার্ট দিকনির্দেশনা দিতে পারে, কিন্তু এগুলো চূড়ান্ত মানদণ্ড নয়। কীভাবে তৈরি, কোন পদ্ধতিতে স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে না জেনে নিছক অন্ধ ভরসা করা ঠিক নয়। সবচেয়ে জরুরি হলো বায়াস ‘আছে কি নেই’ বলেই থেমে না গিয়ে ‘কীভাবে ঢুকেছে’ তা শনাক্ত করা।

শিরোনামে, ছবির বাছাইয়ে, সূত্র নির্বাচনে নাকি তথ্য বাদ দেওয়ার কৌশলে; এই পদ্ধতিগত নজরই আপনাকে সমালোচনামনস্ক কিন্তু ন্যায়বান পাঠকে পরিণত করবে, যেখানে সাংবাদিকের ভুলের পাশাপাশি নিজের দৃষ্টিভঙ্গিও নিয়মিত যাচাইয়ের আওতায় থাকে।

আরো পড়ুন