About
Guidebooks

ফরেন্স ইনফ্লুয়েন্স বাড়াতে টিকটকক

বৈশ্বিকভাবে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে ভিডিওভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটক প্লাটফর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে চীন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ‘অফিস অফ দ্য ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স’ (ওডিএনআই)-এর একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বহুল ব্যবহৃত এই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র দুর্বল করা এবং নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।   

গোয়েন্দা সংস্থাটির প্রতিবেদনে আগামী বছরগুলোতে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার হুমকিগুলো তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আসন্ন মার্কিন নির্বাচনে অনলাইনে ভুল তথ্য ছড়িয়ে চীন প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতে পারে।

গোয়েন্দা সংস্থাটি দাবি করছে, ২০২২ সালের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে চীনের একটি প্রপাগান্ডা বা প্রচার সেল টিকটক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদেরই টার্গেট করেছিল।

তারা আরও জানায়, চীন এখন তাদের এসব কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘জেনারেটিভ এআই’ (Generative AI) ব্যবহার করে আরও চতুরতার পরিচয় দিচ্ছে।

জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা টিকটকের ওপর ক্রমশ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন, ঠিক তখনই এই রিপোর্টটি সামনে এল।

বেইজিং-ভিত্তিক কোম্পানি ‘বাইটড্যান্স’-কে (ByteDance) বাধ্য করা হতে পারে টিকটক বিক্রি করে দিতে নতুবা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপ স্টোর থেকে এই অ্যাপটি নিষিদ্ধ বা ব্যান হয়ে যেতে পারে বলে মার্কিন প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে।

এখন পর্যন্ত, টিকটক ঠিক কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি, তার কোনো ‘সুনির্দিষ্ট প্রমাণ’ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইন প্রণেতাদের একটি গোপন বা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা হয়েছে।

টিকটকের এক মুখপাত্র পলিটিকো-কে (POLITICO) বলেছেন, আমরা প্রতিনিয়ত প্রতারণামূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, এরমধ্যে বিশ্বজুড়ে গোপন প্রভাব বিস্তারকারী নেটওয়ার্কগুলোও রয়েছে। এসব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের ব্যাপারেও আমরা সবসময়ই স্বচ্ছ।  

‘বিশ্বজুড়ে ১৫০টিরও বেশি নির্বাচনের সময় টিকটক নিজের প্ল্যাটফর্মের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। নির্বাচনের এই ঐতিহাসিক বছরেও আমাদের কমিউনিটিকে নিরাপদ রাখতে আমরা নির্বাচন কমিশন, বিশেষজ্ঞ এবং ফ্যাক্ট-চেকারদের সাথে একযোগে কাজ করে যাচ্ছি’, যোগ করেন তিনি।

 

শুধু টিকটকই নয়, মেটা-র (ফেসবুক) মতো অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোও জানিয়েছে যে, চীন এবং অন্যান্য বিদেশী প্রতিপক্ষরা তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

-নিউইয়র্কভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্য পটিলিকো থেকে নেওয়া

আরো পড়ুন